এক-এগারোর অন্যতম নেপথ্য কারিগর লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গোয়েন্দা রিমান্ডে ওই সময়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। প্রায় তিন সপ্তাহের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি সরকারের সময় জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে মইন উ আহমেদকে সেনাপ্রধান করায় তাঁর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এক-এগারোর পটভূমি তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, ২০০৬ সালে গুলশানে দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদক ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে এক নৈশভোজে দেশের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে প্রথম আলোচনা হয়। সেখানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক সংস্কারে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে ২০০৭ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনী খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই ছেলেকে গ্রেপ্তারের পক্ষে ছিল না। তাঁদের গৃহবন্দি রাখা বা বিদেশে পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হলেও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশেষ করে দুই প্রভাবশালী সম্পাদক তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁদের দাবির মুখেই দুই প্রধান নেত্রীর বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে জনমত তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
২০০৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সেই নির্বাচন ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি অলিখিত সমঝোতার ফসল। এই সমঝোতার কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বহাল রাখে এবং জেনারেল মইনসহ ব্রিগেডিয়ার বারী ও আমিনকে নিরাপদে দেশত্যাগের সুযোগ করে দেয়।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা আরও জানান, মইন উ আহমেদ এরশাদের মতো রাজনৈতিক দল গঠন করে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিলেন, যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ বারিধারা থেকে গ্রেপ্তারের পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় রিমান্ডে রয়েছেন।
