প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে বিএনপি পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ। মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ড. ইউনুস যখন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ সই করার ডাক দিয়েছিলেন, তখন বিএনপিই সবার আগে সেখানে গিয়ে সই করেছিল। তাই এই সনদের প্রতিটি শব্দ ও লাইন ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করা হবে।
বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী বর্তমান বিরোধী দল ও তাদের মিত্রদের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি এখন যারা বিরোধী দলে আছে, তারা সনদ সই করার সময় বেশ ঢিলেঢালা ভাব দেখিয়েছিল। এমনকি একটি দল তখন সই না করে নির্বাচনের পর হঠাৎ করে সই করেছে। এখন তারাই আবার এই সনদ নিয়ে বেশি মাতামাতি করছে। তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, যদি জুলাই সনদের প্রতি এতই দরদ থাকে, তবে তারা শুরুতে কেন সই করল না।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিএনপির জনবান্ধব কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের জন্য খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির মতো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যারা এই উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে, দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। জনসেবার পথে কোনো বাধা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সমসাময়িক রাজনীতি ও দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, স্বৈরাচারের ভূত আবার কার ওপর আছর করছে এবং কারা দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। যেকোনো মূল্যে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছানোর পর মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। জিয়ারত শেষে তিনি মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। নববর্ষের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
