ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান চলাকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, গত নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থীর অনুসারীরা এমপিকে অনুষ্ঠানে বাধা দিতেই এই হামলা চালিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ এবং ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়।
সাংসদ মুহাম্মদুল্লাহর দাবি, তিনি সৌজন্য বিনিময় করতে গেলে প্রতিপক্ষের ইশারায় তাঁর সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় তাঁর ভাতিজা মাহাদি হাসানসহ বেশ কয়েকজন অনুসারী আহত হয়েছেন। সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন যে, এর আগে রমজান মাসের একটি অনুষ্ঠানেও একই পক্ষের নেতাকর্মীরা হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছিল।
এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মোতাহার হোসেন তালুকদার। তাঁর মতে, এটি একটি সামান্য কথা-কাটাকাটির ঘটনা ছিল এবং তিনি নিজেই উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। বড় ধরনের কোনো হাতাহাতি বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহম্মেদ জানান, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল, তবে বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জানিয়েছেন যে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়।
বিকেলে এই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ১১-দলীয় জোট। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জোটের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈশাখের উৎসবে এমন রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।







