মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন নেতিবাচক হস্তক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইরান। সোমবার ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাইরের শক্তির অনধিকার চর্চা ছাড়াই প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশগ্রহণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব।
ফোনালাপে দুই নেতা ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের দায়িত্বশীল আচরণের প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়া একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। ওমান আশা প্রকাশ করে যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব হত্যাকাণ্ডের পর শুরু হওয়া ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর ভিত্তিতেই ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, যার জন্য ইরান মার্কিন পক্ষের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও আস্থার অভাবকে দায়ী করেছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান মূলত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিলোপ এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের দাবি জানিয়েছিল। মার্কিন প্রতিনিধি দল এই শর্তগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে শান্তি প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ চলাকালেই ওমানের সঙ্গে ইরানের এই উচ্চপর্যায়ের আলাপচারিতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরান মনে করে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো এবং আন্তর্জাতিক জনমত নিজেদের অনুকূলে আনা সম্ভব। ইরান বারবারই বলে আসছে, তারা শান্তি চায় কিন্তু সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধই এখন ইরানের প্রধান দাবি।
