সরকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম তালিকা থেকে বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে, যা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংসদে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার উপকমিটি তদন্ত ও শুনানি সম্পন্ন করে। কোনো ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদ ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
দেশের যেকোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রেই একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের কাজ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।
