জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘স্বপ্রণোদিত দুর্যোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, এই প্রকল্প মূলত বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধেই ভারত সরকার শুরু করেছিল।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু সিলেট অঞ্চলে এই বাঁধের বিরূপ প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পর স্পিকার এই মন্তব্য করেন। সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার জানান, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অনুরোধেই ভারত এই বাঁধ নির্মাণে আগ্রহী হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
সিলেট অঞ্চলের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত বরাক নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধটি মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ২০০৩ সালে শুরু করেছিল ভারত। তবে পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে এর কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। যদিও পরবর্তীতে ২০১০ ও ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
টিপাইমুখ বাঁধটি ভারতের মণিপুর, মিজোরাম ও আসাম রাজ্যের সংযোগস্থলে অবস্থিত। বরাক ও তুইভাই নদীর মিলনস্থলের কাছে এই প্রকল্পের অবস্থান হওয়ায় ভাটিতে থাকা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের পানি প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর এটি চরম হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই বাঁধের ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোর কৃষি ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।







