বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। শুরুতে গণভোটকে অবৈধ বলা হলেও এখন সরকার এর বৈধতা স্বীকার করেছে—এ অবস্থায় জুলাই সনদ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি সরকারকে আত্মঘাতী অবস্থান থেকে সরে এসে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা ডেকে অবিকৃতভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা সিটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরার অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি ঢাকাকে ইসলামী আন্দোলনের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আপসহীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী আন্দোলন কোনো প্রচলিত ধারার রাজনীতি নয়; এটি মানবকল্যাণে নিবেদিত একটি আদর্শিক কাফেলা। তাই দায়িত্বশীলদের উচিত প্রচলিত রাজনীতির স্রোতে গা না ভাসিয়ে ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই। কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়নের মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বাড়াতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে পরামর্শের ভিত্তিতে এবং দায়িত্ব পালন করতে হবে আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে। তবেই ইসলামী আন্দোলন ভবিষ্যতে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, জামায়াতের রাজনীতির উদ্দেশ্য পার্থিব স্বার্থ নয়; বরং মানবকল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, তাদের রাজনীতি ভোগের নয়, বরং ত্যাগ ও কল্যাণের। এমন একটি সমাজ গঠনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তাদের লক্ষ্য।
তিনি এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
মহানগরী সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা ও ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দীন মানিক ও ইয়াছিন আরাফাতসহ অন্য নেতারা। মজলিসে শূরায় নারী-পুরুষ সদস্যরা অংশ নেন।
