জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অদক্ষ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্র পড়লে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তিন দিনের সরকারি সফরে ভোলায় পৌঁছে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যক্তি হিসেবে ভালো এবং বিশ্ববিখ্যাত হলেও অভিজ্ঞতার অভাবে তারা জনগণের সমস্যা সমাধানে সফল হতে পারেনি। তাদের সময়ে অর্থনীতির সূচক নিম্নমুখী হয়েছে এবং হামের টিকার অভাবের মতো স্বাস্থ্য সংকটে মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। তবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন এবং দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি ওই সরকার ও সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুটিকয়েক ব্যক্তি সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না; এটি কেবল জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সম্ভব। বিদায়ী সরকার কিছু ‘উদ্ভট’ নিয়ম করে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সামান্য মতভেদ থাকলেও সরকার ও বিরোধী দল আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।
অতীতের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, গত ১৬-১৭ বছর দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তখন পুলিশ তাঁকে নিজের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল এবং ‘সন্ত্রাসীরা’ নির্বাচিত হয়েছিল।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ছাত্র-জনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমদের মতো তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ‘মাফিয়া নেত্রী’ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এ সময় ভোলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







