উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA)। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এই আশঙ্কার কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমাণবিক কমপ্লেক্স ‘ইয়ংবিওন’-এ বর্তমানে কার্যক্রমের একটি ‘খুবই গুরুতর বৃদ্ধি’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংস্থার পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেখানকার ৫ মেগাওয়াট চুল্লি, রিপ্রসেসিং ইউনিট এবং লাইট-ওয়াটার রিঅ্যাক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এখন অনেক বেশি সক্রিয়।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে গ্রোসি জানান, ইয়ংবিওনে একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, যা দেখতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের মতো। এই স্থাপনাটি পুরোপুরি চালু হলে পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
IAEA প্রধানের মতে, পিয়ংইয়ং বর্তমানে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির সক্ষমতা রাখে। ২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বের করে দেওয়ার পর থেকে সরাসরি তদারকি সম্ভব না হলেও, বাহ্যিক বিভিন্ন আলামত দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রাগার বড় করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রোসি আরও জানান, উত্তর কোরিয়ার এই ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক তৎপরতা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি এবং এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
