ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হলেও বছরের প্রথম তিন মাসে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে চীনের অর্থনীতি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশের জিডিপি ৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক পণ্যের রপ্তানি এই প্রবৃদ্ধিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
তবে এই সাফল্যের মাঝেও সামনের দিনগুলো নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এনবিএসের উপকমিশনার মাও শেংইয়ং এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক চাহিদাকে দুর্বল করে দিচ্ছে, যা রপ্তানিনির্ভর চীনের জন্য বড় ঝুঁকি। এছাড়া লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা চীনের অর্থনীতির এই ‘দৃঢ় সূচনা’র পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি প্রায় ২২ শতাংশ বাড়লেও মার্চে তা আড়াই শতাংশ কমে গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পণ্য পরিবহন ধীর হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ। তবে সেমিকন্ডাক্টর এবং সবুজ প্রযুক্তির পণ্যের শক্তিশালী চাহিদার কারণে চীন এই ধাক্কা কিছুটা সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও লিথিয়াম ব্যাটারির রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এদিকে চীনের উৎপাদন খাত ভালো করলেও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় নিয়ে হতাশ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। রিয়েল এস্টেট সংকট ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় দেশটির সাধারণ মানুষ খরচ কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে খুচরা বিক্রির গতি কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ার কারণে কারখানা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়লেও তা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, চীন বর্তমানে বহির্বিশ্বের চাহিদার ওপর আগের চেয়ে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যদিও উচ্চপ্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্যে চীনের আধিপত্য তাদের প্রবৃদ্ধিকে স্থিতিশীল রাখছে, তবুও ইরান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের দুর্বল চাহিদা ২০২৬ সাল জুড়ে দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
