ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি হলে পাকিস্তান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যদি ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তান যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এ খবর নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ইরানের সঙ্গে একটি ভালো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য থাকবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ। তিনি জানান, ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে অনেক বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই পুনরায় সরাসরি আলোচনা শুরু হতে পারে। পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা বা আয়োজক হিসেবে ভূমিকা রাখলে ট্রাম্পের এই সফরটি হতে পারে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ইরানের সঙ্গে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন যে, আলোচনার গতিপ্রকৃতি ভালো থাকলে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি কোনো কারণে আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং চুক্তি না হয়, তবে পুনরায় সামরিক হামলা বা লড়াই শুরু হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থান এবং পাকিস্তান সফরের ইঙ্গিতকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ট্রাম্পের এই ‘ভালো চুক্তি’র প্রস্তাব বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
