কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম নামের এক কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’-এ এই হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা দরবারটি ভাঙচুর করে এবং হামলায় শামীমের দুই অনুসারীও আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের মধ্যে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ এবং খেলাফত মজলিসের স্থানীয় আমির আসাদুজ্জামানসহ চারজন রয়েছেন। তবে মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জামায়াত নেতা খাজা আহমেদ দাবি করেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, বরং আহত শামীমকে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিলেন। তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতির কারণে প্রতিপক্ষরা তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ভিডিওতে চিহ্নিত এসব ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়ায় জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিহতের পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে প্রকৃত অভিযুক্তদের আড়াল করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।







