যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে এবং দুই পক্ষকে সমঝোতার পথে আনতে পাকিস্তান বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। গত ৭২ ঘণ্টায় দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া একটি সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং এর পাশাপাশি তেহরান সফর করে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে সৌদি আরব ও তুরস্ক সফরে রয়েছেন, যাতে আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলোকে এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা সরাসরি পাকিস্তানের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলে। এই ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে মিলে একটি নমনীয় পরামর্শমূলক কাঠামো তৈরি করেছে, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘পশ্চিম এশিয়া কোয়াড’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে।
চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় করে পাকিস্তান একটি ‘পাঁচ দফা উদ্যোগ’ ঘোষণা করেছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বড় শক্তিগুলো যখন সংঘাতে লিপ্ত, তখন পাকিস্তান নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যম শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে কূটনৈতিক ক্ষেত্র পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
২০২৫ সালের মে মাস থেকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পাকিস্তানের এই প্রভাব তৈরির চেষ্টা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সামরিক সক্ষমতা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে দেশটি প্রমাণ করতে চাইছে যে, বড় কোনো জোটের অংশ না হয়েও কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে বিশ্বকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
