ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বিচার ও স্মৃতি রক্ষায় গ্রাফিতি আঁকাকে কেন্দ্র করে ‘হাদি ব্যবসায়ী’ ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
জাহিদ আহসান তার পোস্টে বলেন, দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে দেয়াললিখন বা প্রচারণা চালায়, যা রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। ছাত্রদল, শিবির কিংবা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ—সবাই তাদের নেতাদের আদর্শ প্রচার করে। অথচ ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা তাদের শহীদ নেতার বিচারের দাবি জানালে বা গ্রাফিতি আঁকলে সেটিকে ‘ব্যবসা’ বলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অদ্ভুত এক যুক্তি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি ওসমান হাদির নাম ব্যবহার করে কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়া হতো, চাঁদাবাজি বা দখলদারি করা হতো, তবেই তাকে ‘ব্যবসা’ বলা সংগত ছিল। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা এমন কোনো কাজে লিপ্ত নন। ওসমান হাদির সহকর্মীরা তার স্মৃতিচারণ করবেন বা তার কবরের পাশে রোনাজারি করবেন—এটাই স্বাভাবিক আবেগ ও দায়বদ্ধতা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি মনে করেন, ওসমান হাদির লড়াই ও দর্শনকে তাত্ত্বিকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের হয়তো সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু তার বিচারের দাবি জানানো কোনোভাবেই অপরাধ নয়। তার মতে, হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আরও বড় ও পরিকল্পিত আন্দোলন হওয়া উচিত ছিল।
পরিশেষে জাহিদ আহসান প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক ময়দানে অনেকেই শহীদদের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকেন, কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে এমন নেতিবাচক তকমা দেওয়া হয় না। শরীফ ওসমান হাদির কাজ ও ত্যাগকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টাকে কেউ যাতে হেয় না করে, সেই আহ্বানও জানান তিনি।
