ইসরাইলের দাবি এবং লেবাননের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক ভাষ্যকার আবেদ আবু শাহাদেহ আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার যে লক্ষ্য ইসরাইল নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের ধারেকাছেও তারা পৌঁছাতে পারেনি। গত ৪০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনায় তিনি মন্তব্য করেন যে, হিজবুল্লাহকে সামরিক শক্তিতে নিরস্ত্র করা ইসরাইলের সাধ্যের বাইরে।
ইসরাইল বর্তমানে কিছু কৌশলগত ও অপারেশনাল সাফল্যের দাবি করলেও দীর্ঘমেয়াদী এবং মূল লক্ষ্যে তারা এখনো লক্ষ্যহীন অবস্থায় রয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ করতে হলে সমগ্র লেবানন দখল করা প্রয়োজন। তবে সেই পরিমাণ আর্থিক সক্ষমতা কিংবা প্রয়োজনীয় সেনা সদস্য—কোনোটিই বর্তমানে ইসরাইলের নেই। এছাড়া লেবাননের সাথে স্থায়ী শান্তির বিষয়েও ইসরাইলি সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক রূপরেখা অনুপস্থিত।
সরাসরি যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত জয় না পেয়ে ইসরাইল এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। তারা লেবাননের অভ্যন্তরে একটি বিকল্প কোয়ালিশন বা সরকার গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, যারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দায়িত্ব নেবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ লেবাননে নতুন করে চরম সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা ইসরাইলি সরকার ও সাধারণ জনগণের কাছে ‘সফলতা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা ছিল। বিশ্লেষক আবু শাহাদেহ মনে করেন, পুরো বিষয়টি এখন লেবানন সরকারের দৃঢ়তা এবং বর্তমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সামরিক পথে এই সংকটের সমাধান অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
