সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে এক ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে আইএমএফ এই কর্মসূচির অর্থনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্যতা যাচাই না করে তড়িৎ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ছাড়া বিপুল অর্থ ব্যয় কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে নাও আনতে পারে।
আগামী অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। তবে আইএমএফ এই স্কিমটিকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে বিদ্যমান অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করার পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণে ব্যর্থতা পরবর্তী কিস্তি পাওয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনে আইএমএফ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তিনি জানান, আইএমএফ মূলত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক খাতের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং মুদ্রার বিনিময় হার নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে স্নায়ুচাপ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন যে, ১৭ বছর পর দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের পক্ষে মাত্র দুই মাসে ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়ন করা অবাস্তব। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের কাছে পরিষ্কার করেছেন যে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আপসহীন। তবে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
