২০২২ সালে ভোলায় ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আরমান হোসেন বর্তমানে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি পর্যায়ক্রমে কুতুবদিয়া ও রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে ভোলা থানায় একাধিক হত্যা মামলা থাকা সত্ত্বেও এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২২ সালের ৩১ জুলাই, যখন জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ভোলা জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, পুলিশ খুব কাছ থেকে গুলি চালালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম তিন দিন পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত রহিমের ভাই আবুল কাশেম জানান, তার ভাইকে মাটিতে ফেলে মাথা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নূরে আলমের স্ত্রী ইফফাত জাহান ৪৬ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এবং আব্দুর রহিমের স্ত্রী পুলিশ পরিদর্শক আরমান হোসেনকে প্রধান আসামি করে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ কর্তৃত্ববাদী নির্যাতন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন।
মামলার প্রধান আসামি হওয়া সত্ত্বেও আরমান হোসেনের একের পর এক থানায় ওসির দায়িত্ব পাওয়াকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দাবি করছে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বপদে বহাল রাখা হলে নূরে আলম ও আব্দুর রহিম হত্যার সঠিক বিচার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তারা অবিলম্বে দোষী কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।







