দেশে একের পর এক ‘মব’ বা গণপিটুনির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাচ, গান, অভিনয় বা কবিতার মতো সাংস্কৃতিক চর্চা থাকলেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ‘মবের সংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে নিজের নোটিশ উত্থাপন করে তিনি এ কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমানে দেশের কোথাও জননিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তাহীনতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেও মব তৈরি করা হচ্ছে। বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণ ও সুপ্রিম কোর্টের ল’ইয়ার্স রুমে মবের ঘটনা বিচারব্যবস্থার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এছাড়া দ্য ডেইলি স্টার অফিসে হামলা, চট্টগ্রামে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা এবং কুষ্টিয়ায় অভিযোগকারীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও সমাজের গভীর অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও দেশে মব কালচার বন্ধ হয়নি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতিও অব্যাহত রয়েছে। তিনি মনে করেন, মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশে তীব্র হতাশা, ক্ষোভ ও বৈষম্য বিরাজ করছে। অপরাধের বিচার না হওয়ার প্রবণতাই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে দেড় বছর আগে সংঘটিত একটি গণপিটুনির ঘটনার বিচার না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবই মব সংস্কৃতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। তিনি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্যের দুই মিনিট পূর্ণ হতেই মাইক বন্ধ হয়ে যায়।
