রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকে ডাকসুর কয়েকজন নেতার ওপর হামলা এবং পাবনা ও কুমিল্লায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানার ভেতরে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী, সমাজসেবা সম্পাদক এ বি যুবায়ের এবং নারী নেত্রী জুমার ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর নামে ভুয়া আইডি থেকে গুজব ছড়ানো হলে পরে তিনি তা অস্বীকার করেন এবং নিজের পেজে পোস্ট দেন। এরপরও তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার জন্য তিনি শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে তা গ্রহণ না করে তাকে থানায় আটক রাখা হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে এ বি যুবায়ের ও মুসাদ্দেক আলী থানায় গেলে পুলিশ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ছাত্রদলের হামলায় তারা আহত হন।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি অতীতের ফ্যাসিবাদী আচরণেরই পুনরাবৃত্তি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়। একইভাবে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ২৩ এপ্রিল রাতে ছাত্রশিবিরের ওপর হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হন। এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গন অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
তিনি হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে সব পক্ষকে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।







