ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই বহিষ্কার করা হবে।
শুক্রবার উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন আব্দুল মতিন ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির জমা দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণের সময় তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য জানান, সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। আহতদের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিষয় যাচাই করবে এবং অন্যটি হামলার ঘটনার তদন্ত করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বহিষ্কারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে শাহবাগ থানায় দায়িত্বরত অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে ১২ জন অভিযুক্তের নাম, বিভাগ, শিক্ষাবর্ষ, আবাসিক হল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকেলের মধ্যে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের আলটিমেটামও দেওয়া হয়।
সাংবাদিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে সাময়িক বহিষ্কার এবং তদন্ত শেষে স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, যাদের ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে তাদের সনদ বাতিল করা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও শনাক্ত করে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।







