ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গণভবন একসময় ছিল ক্ষমতার প্রতীক। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে অর্জিত এই ভবনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই বিপ্লবের স্মৃতি বহনকারী এই জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো তা খোলা হয়নি। ফলে জাদুঘর উদ্বোধন বিলম্বিত হওয়ার কারণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
আইনি কাঠামো সম্পন্ন, তবুও অপেক্ষা
জাদুঘর পরিচালনার জন্য ২০২৫ সালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়, যা ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের মাধ্যমে স্থায়ী রূপ পায়। নতুন আইনে জাদুঘরের পরিধি বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত নির্যাতনকেন্দ্র বা ‘আয়নাঘর’গুলোকে এর শাখা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির লক্ষ্যে ইউনেস্কোর সঙ্গে কাজ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেল
৪০ কোটির বেশি টাকার প্রকল্পটি ২০২৫ সালের আগস্টে উদ্বোধনের লক্ষ্য থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সাল চললেও দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরের দরজা এখনো বন্ধ রয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ ভুক্তভোগীদের
জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিলম্বে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, জাদুঘরটি দ্রুত চালু হলে নতুন প্রজন্ম আন্দোলনের ইতিহাস জানতে পারত। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনিক ধীরগতি ও সিদ্ধান্তহীনতাই এর প্রধান কারণ।
নেপথ্যে প্রশাসনিক জটিলতা?
সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবের কারণেই উদ্বোধন পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে অন্যরা বলছেন, সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক এবং দ্রুত জাদুঘর খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কী থাকবে জাদুঘরে
জাদুঘরটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর থিম্যাটিক গ্যালারিতে সাজানো হচ্ছে। এখানে থাকবে আন্দোলনের ইতিহাস, ভিডিও ফুটেজ, দেয়ালচিত্র, পোস্টার, শহীদদের স্মারক সামগ্রী ও দলিলপত্র। গবেষকদের জন্য থাকবে পাঠাগার ও ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী।
গণভবন থেকে স্মৃতির কেন্দ্র
১৯৭০-এর দশকে নির্মিত গণভবন একসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল। এখন সেটি রূপ নিচ্ছে গণমানুষের সংগ্রামের স্মারকে—যেখানে ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।
অনিশ্চয়তা কাটবে কবে
সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও উদ্বোধনের নির্দিষ্ট তারিখ না থাকায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি—সব জটিলতা দ্রুত দূর করে জাদুঘরটি খুলে দেওয়া হোক, যাতে জাতির গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সবার জন্য উন্মুক্ত হয়।
এই জাদুঘর কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি জনগণের সংগ্রাম, ত্যাগ ও ইতিহাসের জীবন্ত প্রতীক।
