সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ আগামী ৫ মে রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরিফ হাসনাত জানিয়েছেন, জাহাজটি ইতিমধ্যে লোহিত সাগর ও ইয়েমেনের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা সফলভাবে অতিক্রম করে বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের পথে রয়েছে। গত ২১ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল।
তেলবাহী এই জাহাজটি পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারবে। সম্প্রতি অপরিশোধিত তেলের তীব্র সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল। এই চালানটি পৌঁছালে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহে স্বস্তি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সংকটের পুরোপুরি সমাধান এখনো হয়নি। ইআরএল প্রধান জানিয়েছেন, ‘নর্ডিকস পলাক্স’ নামে আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ১ লাখ টন তেল নিয়ে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় জাহাজটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। উল্লেখ্য, ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন তেল পরিশোধন করে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে থাকে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৯২ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই জ্বালানির সিংহভাগ (৬৩.৪১ শতাংশ) ব্যবহৃত হয় পরিবহন খাতে এবং ১৫.৪১ শতাংশ ব্যয় হয় কৃষিকাজে। দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল ও অকটেন। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ টনেরও বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে।
