দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি এবং সিলেট ও ময়মনসিংহ মহানগরীতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বেসরকারি সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ সক্রিয় হতে শুরু করেছে, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢল নামার সম্ভাবনা থাকলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বৃষ্টির প্রভাবে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বর্ষণে কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ২৯ এপ্রিলের পর থেকে সারা দেশে বৃষ্টি ছড়িয়ে পড়লে চলমান ভ্যাপসা গরম কমে আবহাওয়া আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। বরং আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং গুজব এড়িয়ে সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে।
