যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করা নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা শিগগিরই বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন।
লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লিমন প্রায়ই পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় বৃষ্টির প্রশংসা করতেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বৃষ্টিকে ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জুবায়ের বলেন, লিমনের ভাষ্য অনুযায়ী বৃষ্টি ছিলেন প্রতিভাবান—গান গাওয়া ও রান্নায়ও দক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল টাম্পায় তাঁদের সর্বশেষ দেখা যায়। সেদিন সকালে লিমনকে তাঁর ছাত্রাবাসে এবং কিছুক্ষণ পর বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনে দেখা যায়। পরদিন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে এক পারিবারিক বন্ধু বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানালে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
লিমন দুই বছর ধরে নিজের পিএইচডি থিসিস নিয়ে কাজ করছিলেন এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার ইচ্ছা ছিল বলে জানান তাঁর পরিবার।
প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার পুলিশ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া বৃষ্টিও পিএইচডির শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্লোরিডার একটি এলাকা থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃষ্টির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও পরে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে হামলা, জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা এবং মরদেহ গোপন করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়।
