কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পুলিশের উপস্থিতিতেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে রাজারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় উপজেলা পশ্চিম শাখা শিবিরের সভাপতি সুজন মিয়ার মাথা ফেটে গেছে এবং জেলা স্কুল বিভাগের নেতা সামিদ সাকি মাহিন আহত হয়েছেন। আহত সুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার শিকার শিবির নেতাদের দাবি, রাজারহাট উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক রুবেল মিয়াকে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে শুনে তারা সেখানে যান। সেখানে পৌঁছামাত্রই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারি ও সদস্য সচিব মিজানুর রহমান সাদ্দামের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি, বরং স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
অন্যদিকে, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রুবেল পাটোয়ারি হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও এর পেছনে উস্কানির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, জামায়াত ও শিবিরের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার এবং ছাত্রদলের জাতীয় নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে উত্তেজিত কর্মীরা তাদের মারধর করে। তবে উস্কানির এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নেতা রুবেল মিয়া।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ফেসবুকে পোস্ট ও পাল্টা মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো পক্ষ থেকেই এখনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
