সামুদ্রিক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাঙ্কারট্র্যাকার্স’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে রেকর্ড ৪৬ লাখ ব্যারেল তেল লোড করেছে। মার্কিন প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও অবরোধের মধ্যেই ইরানের এই বিশাল পরিমাণ তেল মজুত ও রপ্তানির প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন নৌ-অবরোধ কৌশলে এড়িয়ে আরও প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল ইতিমধ্যে তার গন্তব্যের পথে রওনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে ইরানের তেলবাহী জাহাজ ও বন্দরগুলো তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এবং বড় অঙ্কের এই তেল রপ্তানির খবর ওয়াশিংটনের সেই দাবিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির এই আবহে ইরান এত বিশাল পরিমাণ তেল রপ্তানি করে বিশ্বশক্তিগুলোকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মাধ্যমে ইরান বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমান এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান তাদের তেল বাণিজ্য সচল রাখতে সক্ষম হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের এই তেলের সরবরাহ বজায় থাকা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
