সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাহসী বার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে এবং ওয়াশিংটন তাদের কোনো লক্ষ্যই অর্জন করতে পারেনি। আরাঘচি জানান, ব্যর্থ হয়েই যুক্তরাষ্ট্র এখন আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে এবং তেহরান বর্তমানে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
এই সফরে আরাঘচি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনির একটি বিশেষ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। সোমবারের এই বৈঠকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনার সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাশিয়া জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে আব্বাস আরাঘচি রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, চলমান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে তেহরানের পাশে রাশিয়ার মতো শক্তিশালী বন্ধু ও মিত্র রয়েছে। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ চুক্তি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি উত্তেজনার শুরু থেকেই মস্কো ও তেহরান সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানের জনগণ এই কঠিন সময় সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও এর আগে দুই দেশের মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠতা ও শান্তির লক্ষ্যে মধ্যস্থতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
