অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভূমিদস্যুদের উদ্দেশে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যেখানে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেন।
পাঠকদের জন্য তার পোস্টের সারাংশ তুলে ধরা হলো—
তিনি বলেন, কিছু পত্রিকা ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী তার এবং আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছে। কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্য ছাড়াই নানা উদ্ভট দাবি করা হচ্ছে, এমনকি দুর্নীতির টাকায় রাজধানীর ইস্কাটনে সন্তানের নামে বাড়ি কেনার অভিযোগও আনা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি সব অভিযোগ মেনে নেবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে তার নামে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার দাবিও উঠেছিল, কিন্তু কেউ কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। এরপরও অপপ্রচার বন্ধ হয়নি।
ড. নজরুল জানান, উপদেষ্টা পদ থেকে সরে যাওয়ার পর নতুন করে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। এক অনলাইন মাধ্যমে দাবি করা হয়, তিনি ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন—যা তিনি সম্পূর্ণ অবাস্তব বলে উল্লেখ করেন। পরে সেই অভিযোগ কমিয়ে ১০০ কোটিতে নামিয়ে আনা হয় এবং সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। তবে আইন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে জানায়, এ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্টদের আবেদনের ভিত্তিতেই বদলি হয়েছে।
তিনি বলেন, একই ধরনের পুরোনো অভিযোগ নতুন করে ছাপিয়ে আরও বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির অভিযোগ জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে তার পাশাপাশি আরও কয়েকজন উপদেষ্টাকেও টার্গেট করা হয়েছে।
ড. নজরুল অভিযোগ করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রথমে সংবাদ প্রকাশ করে, পরে তা ফটোকার্ড আকারে ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করছে। অথচ কোথাও কোনো প্রমাণ, দলিল বা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই—শুধু বড় অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ।
নিজের জীবনযাপনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থাকেন, সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং স্বল্প খরচে চলেন। তার মতে, এমন জীবনযাপনের সঙ্গে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের কোনো মিল নেই।
শেষে তিনি বলেন, অনেকেই তাকে মামলা বা অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দিলেও তিনি তাতে আগ্রহী নন। তার ভাষায়, তার হাতে একটি কলম থাকলেও অভিযুক্তদের রয়েছে বিশাল প্রভাব ও ক্ষমতা। তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেন, দেশটি যেন এসব প্রভাবশালী গোষ্ঠীরই হয়ে গেছে।







