কলকাতার রাজপথে এক পৈশাচিক ঘটনার শিকার হয়েছেন শাগুফতা পারভীন (৩০) নামে এক নারী। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সিদ্ধার্থ চারিওয়াল নামে এক যুবক তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ এপ্রিল কলকাতার ময়দান এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ এপ্রিল এসএসকেএম হাসপাতালে শাগুফতা মারা যান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চাকরির সাক্ষাৎকারের কথা বলে শাগুফতাকে ডেকে এনেছিল অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ। ময়দান সংলগ্ন বাবুঘাট এলাকায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে শাগুফতাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলে সিদ্ধার্থ সাথে রাখা কেরোসিন তাঁর গায়ে ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। শাগুফতার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিতে শাগুফতা পারভীন ঘাতকের নাম স্পষ্ট করে বলে গেছেন। তিনি জানান, ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তিনি বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হননি, যা সিদ্ধার্থকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। এই জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ বেলেঘাটা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ব্যাংকশাল আদালত সিদ্ধার্থের জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা জানান, সিদ্ধার্থ দীর্ঘদিন ধরে শাগুফতাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ঘাতকের ফাঁসি দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় প্রভাবে বিচার প্রক্রিয়া যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
এদিকে, কলকাতার জনবহুল এলাকায় দিনের আলোয় এমন রোমহর্ষক ঘটনা ঘটলেও ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা এই দ্বিমুখী আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটের কারণেই মিডিয়া এই বর্বরতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
