নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পিংকি আক্তার। মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোয় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার সদর উপজেলা কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনা।
দীর্ঘদিন পদটি শূন্য থাকায় নাগরিক সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছিলেন সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি পিংকি আক্তারকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে হাজির হন। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফতুল্লা থানায় ২০২৩ সালে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি রাসেল মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ মেম্বার ও বিতর্কিত সিকান্দার মেম্বারসহ আরও কয়েকজন।
বক্তাবলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত বেশ কয়েকজন মেম্বার ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। পিংকি আক্তারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারির পর ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও মামলার আসামি রাসেল চৌধুরী এবং ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেনের মতো নেতারা আবারও প্রকাশ্যে ফিরছেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা আত্মগোপনে থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক পোস্টও করেছেন।
এই ঘটনায় ফতুল্লার বিএনপি নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতিত ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা এই দৃশ্য কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। শামীম ওসমানের দোসরদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফুল দেওয়াকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বক্তাবলীতে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ নেতাদের মদত দিচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। একই সাথে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
