রাজনৈতিক অঙ্গনে আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি’র অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিবাদের উত্তাল সময়ে ২০ দলীয় জোট ছেড়ে দিলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্ষমতার সুবিধা পাওয়ার আশায় আবারও বিএনপির সাথে ভিড়েছে দলটি। দীর্ঘ দুই দশক জামায়াতের সাথে একই জোটে রাজনীতি করার পর এখন পার্থের জামায়াত-বিদ্বেষী অবস্থানকে অনেকে সুযোগ সন্ধানী হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে গঠিত বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটে অন্যতম শরিক ছিল পার্থের বাবার নেতৃত্বাধীন বিজেপি। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে সরকার গঠনের পর ৪ দলীয় জোট পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটে রূপান্তরিত হয়। এই দীর্ঘ সময় জামায়াতে ইসলামীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করার পর ২০১৯ সালের মে মাসে হঠাৎ করেই কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই জোট ত্যাগের ঘোষণা দেন আন্দালিব রহমান পার্থ।
আওয়ামী শাসন আমলের সেই কঠিন সময়ে জোট ছাড়ার পর ২০২৬-এর জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আবারও বিএনপির সাথে রাজনৈতিক সখ্যতা গড়ে তোলে বিজেপি। সমালোচকদের মতে, ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় বিএনপির ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগের লক্ষ্যেই পার্থ এখন নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন।
বর্তমানে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে আন্দালিব রহমান পার্থকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করতে দেখা যায়। এক সময় যাদের সাথে দীর্ঘ দুই দশক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রতা ছিল, এখন তাদের বিরুদ্ধেই তাঁর এমন ‘লেকচার’ সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এটিকে তাঁর আদর্শিক পরিবর্তনের চেয়ে ক্ষমতার সমীকরণ মেলানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।







