উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। সংবাদমাধ্যমটির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান এই সক্ষমতা ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে চাপে ফেলছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ৪৪টি পারমাণবিক ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ব্যবস্থা রয়েছে, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার। সাধারণ সামরিক কৌশল অনুযায়ী, একটি লক্ষ্যবস্তু নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে অন্তত দুটি ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করা হয়। সেই হিসেবে বর্তমান ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কেবল ২০ থেকে ২৫টি আগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া প্রতি বছর আনুমানিক ১২ থেকে ১৫টি নতুন পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করছে এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে। দেশটির কাছে বর্তমানে হোয়াসং-১৫, ১৭, ১৮ ও ১৯-এর মতো একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য মতে, পিয়ংইয়ংয়ের কাছে কয়েক ডজন লঞ্চার ব্যবহারের সক্ষমতাও থাকতে পারে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও উত্তর কোরিয়া অনেক এগিয়েছে। তাদের নতুন সলিড-ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়। পাশাপাশি রাডারকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তারা ‘ডিকয়’ বা কৃত্রিম লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের প্রযুক্তি যুক্ত করছে। এর ফলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝ আকাশে শনাক্ত করা ও প্রতিহত করা পশ্চিমাদের জন্য দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
