নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা, হত্যার হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং একজনের পদ স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে সাবেক এক নেতাকে শোকজ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন। এছাড়া বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার দুপুরে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকরা মিলে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। এ সময় ছাত্রদল সভাপতি সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় কয়েকজন শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছিলেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, প্রয়োজনে শিক্ষকতা ছেড়ে দেবেন, তবুও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করবেন না। শিক্ষক পরিষদ হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিলসহ চার দফা দাবি পেশ করে আন্দোলনে নামে।
তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষকরা তাঁদের কর্মবিরতি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ঘোষিত পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে কলেজে পুনরায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
