দীর্ঘ ১০ মাস মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকার পর অবশেষে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এই অঞ্চল ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছে। ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই রণতরীটি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম এই রণতরীটি ফিরে যাওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সংঘাত বা যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য এই রণতরীটির উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। রণতরীটির বিদায় ওই অঞ্চলের বর্তমান সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড বিদায় নিলেও পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরে ইরানের ওপর অবরোধ কার্যকর রাখতে এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় আরও দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রাখছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। এই রণতরী দুটি মূলত ইরান বিরোধী তৎপরতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী এই মোতায়েন শেষ করে রণতরীটি ফিরছে মূলত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্রুদের বিশ্রামের জন্য। তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এই সময়ে এমন শক্তিশালী একটি রণতরীর প্রস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ফোর্ড ফিরে গেলেও মিত্রদের সুরক্ষা দিতে এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তাদের অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা ওই অঞ্চলে সচল থাকবে।
