নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক বিধবা নারীর দোকান ও জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার পাশাপাশি বর্তমানে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পারুল আক্তার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে পারুল আক্তার জানান, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর আগে কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারী ইউনিয়নের শান্তির হাট এলাকায় একটি মার্কেটসহ ১৫৫ শতাংশ জমি এবং সুবর্ণচরে তিন একর জমি তাঁর ও তাঁর সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজ আজমীর তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আজিজ আজমীরের নেতৃত্বে কয়েক দফায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাঁদের মার্কেটের সব দোকান দখল করে নেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহায়তায় তাঁরা উদ্ধার পান। এ ছাড়া সুবর্ণচরে তাঁদের চাষের জমিও দখলে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
পারুল আক্তার দাবি করেন, এ বিষয়ে থানা, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বারবার অভিযোগ করেও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আজিজ আজমীরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।







