ফেনীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলার এক আসামিকে ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক করায় তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে নবগঠিত ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল কমিটির ৮ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই একযোগে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২ মে) কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া বাকি সব নেতা তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ঘোষিত ওই আংশিক কমিটিতে গাজী এনামুল হক সুজনকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। এর পরেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সুজন ২০১৭ সালে ফেনীর মহিপালে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার ২৫ নম্বর আসামি। নেত্রীর ওপর হামলার মামলার আসামির অধীনে রাজনীতি করা সম্ভব নয়—এই দাবিতেই মূলত গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে।
অভিযুক্ত এনামুল হক সুজন দাবি করেছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। ফেনী পৌর যুবদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলুও তাঁকে ‘পরীক্ষিত কর্মী’ উল্লেখ করে দাবি করেছেন যে সুজন ষড়যন্ত্রের শিকার। তবে সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রাসেল পাটোয়ারী জানান, মামলার বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না এবং পদত্যাগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ ১৭৮ জনকে আসামি করে দায়ের করা এই চাঞ্চল্যকর মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। তদন্তাধীন এই মামলার একজন আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ দলীয় পদ দেওয়ায় ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
