ভারতের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ঢেউ দেখা গেছে। এই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ ১৫ বছরের মমতা শাসনের অবসান ঘটিয়ে জয়লাভ করেছে বিজেপি এবং তামিলনাড়ুতে দুই দ্রাবিড়ীয় পরাশক্তিকে হটিয়ে ইতিহাস গড়েছে অভিনেতা বিজয়ের দল ‘টিভিকে’। কেরালাতেও বাম সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ।
পশ্চিমবঙ্গে মমতার পতন ও বিজেপির জয় পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় ঘটেছে। বিজেপি উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূলের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোতেও বড় জয় পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ও ভয়মুক্ত অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার ২০ জনেরও বেশি মন্ত্রী নিজ নিজ আসনে হেরে গেছেন।
তামিলনাড়ুতে বিজয়ের ঐতিহাসিক অভিষেক তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কয়েক দশকের প্রথা ভেঙে অভিনেতা জোসেফ বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-র মতো শক্তিশালী দলগুলোকে পেছনে ফেলে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন। তবে টিভিকে ম্যাজিক ফিগার ১১৪ থেকে সামান্য দূরে থাকায় সেখানে একটি ‘ঝুলন্ত বিধানসভা’র সৃষ্টি হয়েছে এবং জোট সরকার গঠনের আলোচনা চলছে।
কেরালা ও আসামের চিত্র কেরালাতে পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ সরকারকে হটিয়ে বিশাল জয় পেয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। এর ফলে ভারতের শেষ বামপন্থি সরকারেরও পতন ঘটলো। তবে কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গের বিপরীতে আসামে বিজেপি তাদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং আসন সংখ্যা বাড়িয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কংগ্রেস সেখানে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।
পুদুচেরিতে এনডিএ-র আধিপত্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে এনআর কংগ্রেস ও বিজেপির সমন্বয়ে গঠিত এনডিএ জোট আবারও ক্ষমতায় ফিরছে। এখানেও বিজয়ের দল টিভিকে দুটি আসনে জয় পেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এবারের নির্বাচন ভারতের একাধিক রাজ্যে ক্ষমতাসীনদের বিদায় এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছে।
