রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার মধ্যরাতে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কলেজের ছাত্রীনিবাসের গেট পেরিয়ে শত শত নারী শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসেন এবং ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। “হল কারো বাপের না, ছাত্ররাজনীতি চলবে না” এবং “প্রশাসনের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”—এমন সব স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিক্ষোভের নেপথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি কলেজের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই কমিটির মাধ্যমে আবারও হলগুলোতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই কমিটির সমালোচনা করায় অন্তত তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
আন্দোলনরত ছাত্রীরা জানান, তাঁরা ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও নিরপেক্ষ আবাসিক পরিবেশ চান। তাঁদের মতে, হল কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না; সেখানে কেবল পড়াশোনার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় প্রভাব বাড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং একটি ভীতির সংস্কৃতি তৈরি হয় বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে সংগঠনের ভেতরেও বিরোধের খবর পাওয়া গেছে। পদবঞ্চিত একটি অংশ আগেই এই কমিটিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেছিল। তবে এবারের চিত্র ছিল ভিন্ন, কারণ কোনো দলীয় বিরোধ নয় বরং সাধারণ নারী শিক্ষার্থীরাই সরাসরি হল রাজনীতির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।
কলেজ প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার কথা জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শিক্ষক ও হল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে আগেও ছাত্রীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন, তবে মধ্যরাতে রাজনীতি বন্ধের দাবিতে এই বিক্ষোভ ক্যাম্পাসে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বহিষ্কারের গুঞ্জন সত্যি প্রমাণিত হলে কিংবা হল রাজনীতি বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া এবং ক্যাম্পাসে প্রতিনিধিত্বের অভাবই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তিতুমীর কলেজের এই ঘটনা আগামী দিনে ক্যাম্পাস রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
