নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর এক সদস্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দীর্ঘ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। নিয়ামতুল্লাহ মঙ্গল নামের এই আফগান নাগরিক ভারত থেকে যশোর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জের একটি কওমি মাদ্রাসায় আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকে বেশ কয়েকটি জেলায় ভ্রমণ করেন বলে গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে মাদ্রাসাটিতে তিনি অবস্থান করেছিলেন সেটির পরিচালক আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২১ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। গত ১৩ জানুয়ারি একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাঁকে টিটিপির পক্ষে প্রকাশ্য বক্তব্য দিতে এবং শরিয়াহ ও খেলাফতের দাবিতে তাঁদের সমর্থন করার আহ্বান জানাতে শোনা যায়।
ওই বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশে আনার নেপথ্যে ছিলেন উক্ত মাদ্রাসারই একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক, যাঁর নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই শিক্ষক আগে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজিবি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে কারাভোগ করেছেন। তবে মাদ্রাসা পরিচালক দাবি করেছেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো বিদেশিকে আশ্রয় দেওয়া যে অবৈধ, তা তাঁর জানা ছিল না।
জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার এই বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে গত অক্টোবরে দক্ষিণাঞ্চলের এক জেলায় ২১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন তল্লাশির সময়। ওই শিক্ষার্থীর ফোনে টিটিপি নেতা ইমরান হায়দারের সঙ্গে ভয়েস ও টেক্সট বার্তার আদানপ্রদান খুঁজে পায় পুলিশ। জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী উক্ত মাদ্রাসা পরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে বিভিন্ন জেলায় সফর করতেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
আফগানিস্তানের জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ইন্টেলিজেন্স (জিডিআই) নিশ্চিত করেছে যে, নিয়ামতুল্লাহ মঙ্গলের পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২২ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘ সময় পাকিস্তানে অবস্থান করেছিলেন। পাসপোর্টের মেয়াদ না থাকায় বাংলাদেশে তাঁর প্রবেশের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। দেশের অভ্যন্তরে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর এই সক্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে স্থানীয় যোগসূত্র নতুন করে নিরাপত্তার উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
