দুইটি হত্যা মামলার আসামি এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানকে ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গত ৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। তবে তাঁর এই পদায়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে এবং তাঁকে আইনের আওতায় আনার জন্য বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এক পরিবারের সদস্য।
মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ের। ২০১৭ সালে পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদল নেতা মিজানুর রহমানের বাবা আইনাল হক ২০২৪ সালে একটি হত্যা মামলা করেন, যাতে মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মিজানুরকে আটকে রেখে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং মুক্তিপণের ৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও তাঁকে হত্যা করা হয়।
একই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মিজানুরের ভাই এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রেজাউল করিমকেও ওই সময় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মিজানুরের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেলেও রেজাউল আজ অবধি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় গুম কমিশনেও অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সেতাউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে ব্যক্তি একটি পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছেন, মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এসপি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এছাড়া ২০ অক্টোবর দায়ের হওয়া আরও একটি হত্যা মামলায় মাহবুব আলম খানকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব আলম দাবি করেছেন, একটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন এবং অন্য মামলার ঘটনার সময় তিনি ট্রেনিংয়ে ছিলেন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, যথাযথ প্রমাণাদি সংশ্লিষ্টদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এই মামলা থেকেও অব্যাহতি পাবেন বলে আশা করছেন।
মানবাধিকার আইনজীবীরা এই পদায়নকে ‘গণবিপ্লবের চেতনার পরিপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে যেখানে তাঁকে বরখাস্ত করা উচিত ছিল, সেখানে জেলার শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর পদায়ন জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। সরকার ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
