চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী-এর জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। তবে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুরসহ পৃথক চার মামলায় তাঁর জামিন আবেদনের ওপর রায়ের জন্য আগামীকাল সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহের-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত আইনজীবী হত্যা মামলায় দেওয়া রুল ডিসচার্জ করেন, অর্থাৎ এ মামলায় জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।
চিন্ময়ের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে গত বছর পৃথকভাবে এসব আবেদন করা হয়। পরে গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন এবং জানতে চান কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না।
গত ৭ মে এসব আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য রোববার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী আজ পাঁচটি আবেদনই আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে।
আদালতে চিন্ময়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
রায়ের পর আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলায় আদালত জামিন আবেদন খারিজ করেছেন। তবে অন্য চার মামলায় জামিন আবেদনের বিষয়ে আগামীকাল রায় দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময়ের জামিনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
একই ঘটনার জেরে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে এসব মামলায়ও চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ এনে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চিন্ময়কে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।
