আইসিবিএম (ICBM)-এর পর এবার প্রতিরক্ষা শিল্পে নিজেদের সক্ষমতা জানান দিতে নিজস্ব প্রযুক্তির প্রথম মিনি-সাবমেরিন উন্মোচন করেছে তুরস্ক। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা এক্সপো ২০২৬’-এ দেশটির তৈরি এই প্রথম মিনি-সাবমেরিনটি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয়। তুরস্কের নিজস্ব প্রকৌশলে তৈরি এই যুদ্ধযানটি দেশটির নৌবাহিনীর শক্তিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কারামুরসেলের উপকূলে এই সাবমেরিনটির প্রথম ডাইভ ট্রায়াল বা ডুব দেওয়ার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সাবমেরিনটির এই প্রথম চালকবিহীন ডাইভ পরীক্ষাটি সশরীরে পর্যবেক্ষণ করেছেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং তুর্কি লয়েড সার্ভেয়াররা। সমুদ্রের তলদেশে যানটির কার্যকারিতা ও গতিবিধি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পাশাপাশি সাবমেরিনটি মেরিটাইম ক্লাসিফিকেশন সোসাইটি ‘তুর্কি লয়েড’ থেকে আন্তর্জাতিক মানের গুণমান ও নিরাপত্তা সনদ লাভ করেছে। উন্নত আসেলসান মেরকান ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর ও মেটেকসান সোনার প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এই সাবমেরিনটি পানির নিচে এতটাই নিঃশব্দ যে আধুনিক রাডার বা ডিভাইসের মাধ্যমে একে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
এই মিনি-সাবমেরিনটি বহুমুখী আক্রমণ চালাতে সক্ষম। এটি বায়কার ড্রোন ব্যবহার করে দলবদ্ধভাবে ইউএভি হামলা পরিচালনা করতে পারে এবং সমুদ্রতলে ১২টি স্মার্ট মাইন স্থাপন করতে সক্ষম। এছাড়া এটি আকিয়া ও ওরকা টর্পেডোর পাশাপাশি রকেটসান-এর তৈরি আটমাকা ও চাকির মিসাইল নিখুঁতভাবে নিক্ষেপ করতে পারে। তুরস্কের এই অর্জন বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে দেশটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।
