সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মানুষ পৃথিবীতে চিরস্থায়ী নয়। তবে যতদিন বেঁচে থাকা যায়, ততদিন মা-বাবার সেবা, যত্ন ও খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব সন্তানেরই। শত ব্যস্ততার মাঝেও তাদের জন্য সময় বের করে নিতে হবে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করা তাঁর মা মরহুমা বেগম জেবুন্নেছার আত্মার মাগফেরাত কামনায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, মা-বাবা পৃথিবী থেকে চলে গেলে মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাদের জন্য যত বেশি দোয়া করা যায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়, ততই তাদের আত্মার শান্তি লাভ হয়। তাই যাদের বাবা-মা আর বেঁচে নেই, তাদের উচিত বেশি বেশি দোয়া করা, দান-সদকা করা এবং তাদের স্মৃতিকে সম্মান করা।
তিনি আরও বলেন, বাবা-মা শুধু পরিবার নয়, একটি সমাজ ও জাতি গঠনেরও ভিত্তি। তাদের ত্যাগ, ভালোবাসা ও আদর্শই সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করে। তাই জীবিত অবস্থায় তাদের সম্মান ও সেবা করা যেমন দায়িত্ব, তেমনি মৃত্যুর পর তাদের জন্য দোয়া করাও সন্তানের কর্তব্য।
দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। তিনি বলেন, মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ। শিক্ষকতা পেশায় তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষা ও নৈতিকতার আলোয় আলোকিত করেছেন। তার শিক্ষার্থীদের অনেকেই বর্তমানে রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, একজন আদর্শ মা হিসেবেও বেগম জেবুন্নেছা ছিলেন অনুকরণীয়। নিজের সন্তানদের তিনি সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিকতায় গড়ে তুলেছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ, বিনয়ী, মিতব্যয়ী ও সদালাপী ছিলেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও শিশুদের প্রতি তার সহানুভূতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব মরহুমার স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।
এ সময় সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিশু পরিবারের কোমলমতি শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।
মরহুমা বেগম জেবুন্নেছার আত্মার মাগফেরাত কামনায় ক্যাপিটেশন গ্রান্টভুক্ত ২০ জন এতিম হাফেজ শিশু ছয়বার কোরআন খতম করেন। পরে ধানমন্ডির সোবহানবাগ জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মাসুম বিল্লাহ বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের মা মরহুমা বেগম জেবুন্নেছা গত ৬ মে ২০২৬ সালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।







