বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। চাঁদা না পেয়ে চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে সম্মানহানি করছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কমচঙ ইয়ুংছা মাউরুম পাড়া, খিদু পাড়া এবং রাংলাই দাংলি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৭ এপ্রিল চক্রের কয়েকজন সদস্য বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং পরে সেই ছবিগুলো নেতিবাচক প্রচারণায় ব্যবহারের হুমকি দিয়ে বড় অংকের টাকা দাবি করেন। পরবর্তীতে ৩ মে আলীকদম সদরের একটি রেস্টুরেন্টে শিক্ষকদের ডেকে পুনরায় মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়।
শিক্ষকরা এই অন্যায্য চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাঁদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও কয়েকটি বেনামি পোর্টালে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভিডিও এবং মিথ্যা সংবাদ প্রচার শুরু করেন। ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. আরিফ বিল্লাহসহ অন্য শিক্ষকরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রতিকূল পরিবেশে তাঁরা নিয়মিত পাঠদান করছেন। সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে একটি চক্র তাঁদের পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ণ করে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রমতে, অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের একজন সুজন চৌধুরী দাবি করেছেন, তাঁরা তথ্য-প্রমাণ নিয়ে কাজ করেছেন এবং শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই। ভুক্তভোগী শিক্ষকরা এই চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে রেহাই পেতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
