ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ার পেছনে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মন্তব্য করেন যে, অতীতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে রাজনীতিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার মানে। তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই বর্তমান ভিসি নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় পদে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে আসীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে এর বৈপরীত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত হওয়ার কথা বলছেন, তখন খোদ ভিসি পদেই একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার অবস্থান এক ধরনের স্ববিরোধিতা। সমালোচকদের মতে, মেধা ও পেশাদারিত্বের কথা বলা হলেও উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক ও একাডেমিক স্তরে রাজনৈতিক পরিচয় এখনো বড় ফ্যাক্টর হিসেবে রয়ে গেছে, যা র্যাঙ্কিং উন্নয়নের পথে অন্তরায় হতে পারে।
এই নিয়োগ ও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি অপরিহার্য। তবে সর্বোচ্চ পদে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি থাকলে সেই প্রক্রিয়া কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বর্তমান ভিসি নিয়োগের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
