ইরানের রাজধানী তেহরানে কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই বিশেষ যুদ্ধকালীন মহড়া চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ‘মোহাম্মদ রাসূলুল্লাহ’ ইউনিট। মঙ্গলবার (১২ মে) এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মূলত শত্রুর সম্ভাব্য স্থল আক্রমণ মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতেই আইআরজিসি এই মহড়ার আয়োজন করে।
তেহরান আইআরজিসির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানান, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মার্কিন-ইসরায়েলি হুমকি মোকাবিলায় বাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই ছিল এই মহড়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মহড়াতে আইআরজিসির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সদস্যরাও অংশ নেন। বিশেষ এই মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার মধ্যে ইরানের এই আকস্মিক সামরিক তৎপরতাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে এই মহড়া চালানো হলো। শত্রুর যেকোনো ধরনের মুভমেন্ট বা অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে কঠোর হাতে দমনের বার্তা দেওয়া হয়েছে এই সামরিক মহড়া থেকে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন ও আর্টিলারি নিয়ে বড় আকারের মহড়া চালিয়েছিল আইআরজিসি। তবে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে আগাম ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের মহড়া তেহরানের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সংকট নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের যে অস্থিরতা চলছে, এই মহড়া সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
