বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে রাশিয়া। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের নিবিড় গবেষণার পর তৈরি করা এই ক্ষেপণাস্ত্রটি এখন রুশ সামরিক বাহিনীর প্রধান শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এই পাল্লা বর্তমানে বিশ্বের অন্য যেকোনো শক্তিশালী দেশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে বহুগুণ ছাড়িয়ে গেছে। সফল পরীক্ষার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক বিবৃতিতে সারমাতকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, সারমাত পশ্চিমা দেশগুলোর হাতে থাকা যেকোনো মারণাস্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং এটি অধিক পরিমাণে বিধ্বংসী অস্ত্র বহনে সক্ষম। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাবাহিনীতে মোতায়েন করা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রযুক্তি রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যারা মস্কোকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা এখন থেকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সারমাতের এই অভাবনীয় পাল্লা এবং ক্ষমতা আন্তর্জাতিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো দেশগুলোর কাছে যেখানে ১২ হাজার কিলোমিটার পাল্লার প্রযুক্তি রয়েছে, সেখানে রাশিয়ার ৩৫ হাজার কিলোমিটারের দাবি বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য রাশিয়ার এই পদক্ষেপ একটি কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
