রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের জেনারেটর চুরির চেষ্টার ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বিদ্যালয়ের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, জেনারেটর রুমের দায়িত্বরত দারোয়ানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে জেনারেটরটি একটি পিকআপে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যালয় মাঠের এক কোণে সংরক্ষিত এই জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর বিদ্যুৎ সুবিধার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রমনা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শামীম হোসেন ওরফে ফর্মা শামীম এবং রমনা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মারফতুল্লাহ সাহেদের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে নিরাপত্তারক্ষীরা পিছু হটতে বাধ্য হন।
জেনারেটরটি পিকআপে তোলার সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। জনতা সম্মিলিতভাবে বাধা দেওয়ায় অভিযুক্তরা জেনারেটর সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হন। পরে উত্তেজিত জনতা মারফতুল্লাহ সাহেদসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জেনারেটরটি জব্দ করে এবং আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামীম হোসেন নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, জেনারেটর কাণ্ডে রমনা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মারফতুল্লাহ সাহেদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁকে দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদিকে জনসাধারণের সম্পদ আত্মসাতের এমন চেষ্টার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রমনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সবার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
