সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা পরবর্তী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়েছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের ১৫০ জনেরও অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে ৫ আগস্টের পর প্রথমবারের মতো বড় ধরনের শোডাউন দেয় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বুধবার ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর জানাজাকে ঘিরে শোডাউন করার ঘোষণা দিয়েছিল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন। বৃহস্পতিবার সকালে জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে লাশবাহী গাড়ি ঘিরে মিছিল শুরু হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার সমর্থনে এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে থাকেন। মিছিলটি নগরীর ওয়াসা মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে।
নিষিদ্ধ সংগঠনের এই শোডাউন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লিখিত রূপরেখা ঘোষণা করেছিল, তবে মাঠপর্যায়ে পুলিশের ঢিলেঢালা ভাবের সুযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানাজাস্থলে ঢুকে পড়ে। এই শোডাউনে জুলাই গণহত্যার আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদেরও প্রকাশ্যে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে সিএমপির জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, জানাজা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ায় সেখানে পুলিশ বাধা দেয়নি।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের জানাজায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাৎ হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা ফজলুল হকের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারকের জানাজায় অংশ নেওয়া এবং তাঁর প্রশংসা করার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ও নিজ দলের অনেক নেতাকর্মী ইতিবাচকভাবে নেননি। অনেকে অতীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জানাজায় আওয়ামী লীগের বাধা দেওয়ার স্মৃতিও রোমন্থন করেন।
চট্টগ্রামে জানাজা শেষে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের মরদেহ মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার প্রদানের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এদিকে, অতীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মরহুমের করা বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য নতুন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
