গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আলোচিত ৫ খুনের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তাঁর ভাসমান লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে স্ত্রী, তিন সন্তান ও শ্যালককে নৃশংসভাবে হত্যার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন।
গত শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তাঁদের তিন মেয়ে মিম (১৪), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)। ঘটনার পর থেকে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ফোরকান পরিবারের সদস্যদের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করার পর গভীর রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে সবার গলা কেটে হত্যা করে। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শারমিন খানমের বাবা মো. সাহাদৎ মোল্লা কাপাসিয়া থানায় ফোরকানকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ জানায়, ফোরকান মিয়াকে হন্যে হয়ে খোঁজা হচ্ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার হলো।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান মিয়া নিজেও আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচিত এই গণহত্যাকাণ্ডের প্রধান রহস্যের জট খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
